ঝরনা বেগম (৫৭), খাঁ বাড়ি, হাজির হাটি।

সাফল্যের গল্প : ২০২২ সাল। জীবনের ৫৭টি বসন্ত পার করা ঝরনা বেগমের দিনগুলো কাটছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার মতো কোনো পুঁজি বা অবলম্বন ছিল না তার। ঠিক সেই সময়েই তার পাশে দাঁড়ায় আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (AKWO)। ২০২২ সালের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ছাগী প্রদান করা হয়।
​সংগ্রাম ও টিকে থাকা:


অর্গানাইজেশন থেকে পাওয়া একটি ছাগলকে সম্বল করেই ঝরনা বেগম তার দিন বদলের চেষ্টা শুরু করেন। পরম মমতায় তিনি সেটির লালন-পালন করতে থাকেন। পথে কিছু প্রতিকূলতাও ছিল; রোগ-বালাইয়ের কারণে তার ৩টি ছাগল মারা যায়। কিন্তু ঝরনা বেগম দমে যাননি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি বাকিগুলোর যত্ন অব্যাহত রাখেন।
​সাফল্যের বর্তমান চিত্র:
পরিশ্রমের ফল পেতে খুব বেশি দেরি হয়নি। অর্গানাইজেশন থেকে পাওয়া সেই একটি ছাগী থেকেই আজ তার ছোট ছোট অর্জনগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
​বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে বাচ্চা সহ তার কাছে মোট ৬টি ছাগল রয়েছে।
​আর্থিক সচ্ছলতা: এর মধ্যে তিনি ইতিমধ্যে ৩টি ছাগল বিক্রি করে সংসারের জরুরি প্রয়োজন মিটিয়েছেন।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: তার কাছে বর্তমানে ২টি বড় খাসি রয়েছে। ঝরনা বেগমের স্বপ্ন এখন আরও বড়। তিনি এই দুটি খাসি বিক্রি করে এবং সাথে জমানো কিছু টাকা যুক্ত করে একটি ছোট গরু বা বাছুর কেনার পরিকল্পনা করছেন।
ঝরনা বেগমের এই ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সঠিক সময়ে সামান্য একটু সহযোগিতা পেলে একজন মানুষ কীভাবে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। একটি ছাগল থেকে গরু কেনার স্বপ্নে পৌঁছানোর এই যাত্রায় আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন তার সঙ্গী হতে পেরে গর্বিত।

 

Translate »